বুধবার | ৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | 23 September 2026
সময়: ৯:৩৫ অপরাহ্ন
সংবাদ

নিখোঁজের তিন দিন পর খালে পাওয়া গেল শিশুর বস্তাবন্দি লাশ

📅 ৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ 🕒 ১:০৪ পূর্বাহ্ন 👁 পাঠক: ১২২৫

বোরহানউদ্দিনে শিশু ইসমাঈল হত্যা: বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, মোবাইল নিয়ে বিরোধের জেরে নির্মমতার আশঙ্কা

বিশেষ প্রতিনিধি: ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকা ছয় বছরের নিষ্পাপ শিশু মো. ইসমাঈলের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া এলাকার একটি খালের ভেতর থেকে ভাসমান অবস্থায় পুলিশ শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। শিশুটিকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে নাকি অন্য কোনোভাবে প্রাণ নেওয়া হয়েছে—তা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রোকন হাওলাদার (২৩) নামের এক স্থানীয় তরুণকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। নিহত ইসমাঈল বোরহানউদ্দিনের মুসলিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা আকবর হোসেনের ছেলে। 

খেলতে গিয়ে নিখোঁজ, মাইকিং ও জিডি
নিহত শিশুটির পারিবারিক সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত রবিবার সকালে প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিকভাবেই নিজ বাড়ির সামনে খেলাধুলা করছিল শিশু ইসমাঈল। তবে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেলেও শিশুটি আর ঘরে ফিরে আসেনি। সন্তানকে না পেয়ে স্বজনেরা চরম উৎকণ্ঠায় চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। নিকটাত্মীয়দের বাড়িসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে সন্ধান করার পরও কোনো কূলকিনারা না পেয়ে পরিবারে নেমে আসে চরম দুশ্চিন্তা। 

পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং পুরো এলাকায় মাইকিং করে সন্ধান চাওয়া হয়। কিন্তু তিন দিন ধরে শিশুটির কোনো হদিস মেলেনি।

খাল থেকে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার
নিখোঁজের তিন দিন পর মঙ্গলবার সকালে মুসলিমপাড়া এলাকার পাশের একটি খালে স্থানীয় লোকজন পাটের বস্তাবন্দি একটি বস্তু ভেসে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হলে তারা কাছে গিয়ে নিশ্চিত হন ভেতরে মানুষের মরদেহ রয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে নিখোঁজ ইসমাঈলের স্বজনেরা ও শত শত উৎসুক জনতা খালের পাড়ে ভিড় জমান। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

পুলিশ সদস্যরা খাল থেকে বস্তাটি পাড়ে তুলে আনেন এবং মুখ খুলে ৬ বছরের শিশু ইসমাঈলের নিথর দেহ শনাক্ত করেন। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

পূর্বশত্রুতা ও হুমকির চাঞ্চল্যকর তথ্য
ইসমাঈলের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে মোবাইল ফোন কেনাবেচা সংক্রান্ত পুরোনো একটি বিরোধ কাজ করে থাকতে পারে বলে দাবি করছে নিহত শিশুটির পরিবার। 

নিহত ইসমাঈলের চাচী নুর নাহার (৪০) বলেন, "কিছুদিন আগে একটি মোবাইল ফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে ইসমাঈলের বাবা আকবর হোসেনের সাথে রোকনের কথা-কাটাকাটি ও তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই সময় রোকন ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির বাবাকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন— ‘তোকে আমি এমন শিক্ষা দেব, যা নিয়ে তোকে সারাজীবন কাঁদতে হবে।’" 

স্বজনদের ধারণা, সেই ক্ষোভ থেকেই প্রতিশোধ নিতে শিশু ইসমাঈলকে সুযোগ বুঝে তুলে নিয়ে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, স্বজনদের এসব অভিযোগ ও সম্ভাব্য সকল কারণ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফউদ্দিন বলেন, "খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ গিয়ে খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।"

ওসি আরও জানান, "পরিবারের অভিযোগ ও সন্দেহের তীর থাকায় রোকন নামে ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শিশুটিকে ঠিক কী উপায়ে হত্যা করা হয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সাথে আর কে বা কারা জড়িত—তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও চলমান তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

← সব সংবাদে ফিরে যান