বুধবার | ৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | 23 September 2026
সময়: ৯:৩৪ অপরাহ্ন
সংবাদ

হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রামে নাগরিকের গোপন তথ্য বিক্রি

📅 ৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ 🕒 ১২:৫১ পূর্বাহ্ন 👁 পাঠক: ৩৫৪

হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রামে নাগরিকের গোপন তথ্য বিক্রি: এনআইডির পর কল লিস্ট, বিকাশ ও পাসপোর্ট ডেটাও উন্মুক্ত!

বিশেষ সংবাদদাতা: দেশের সাধারণ নাগরিকদের অতি সংবেদনশীল ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। শুধু জাল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরিই নয়, এবার হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মতো এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের বিভিন্ন গোপন গ্রুপ ও চ্যানেলে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশের নাগরিকদের গোপন ও স্পর্শকাতর সব তথ্য। কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), মোবাইল ট্র্যাকিং বা লোকেশন, সিমের মালিকানা তথ্য, বিকাশ ও আর্থিক লেনদেনের হিসেব এমনকি পাসপোর্ট ডেটাবেজের তথ্য টাকা দিলেই চলে যাচ্ছে অপরাধীদের হাতে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক চক্রটির ২৭ জন সদস্যকে চিহ্নিত করার পর ডিবির বিশেষ দল যখন তাদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে, ঠিক তখনই তদন্তের সূত্রে বেরিয়ে এসেছে সাইবার অপরাধের এই ভয়াবহ চিত্র।

টেলিগ্রাম-হোয়াটসঅ্যাপে তথ্যের হাট অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের কিছু সুনির্দিষ্ট গ্রুপে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রকাশ্যেই এই 'তথ্য বিক্রি'র বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে যেকোনো মোবাইল নম্বরের সিডিআর (কল লিস্ট), ব্যবহারকারীর বর্তমান ও স্থায়ী লোকেশন বের করে দিচ্ছে তারা।

শুধু তাই নয়, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর বা ফোন নম্বর দিলে মুহূর্তের মধ্যেই বের করে দেওয়া হচ্ছে সেই ব্যক্তির নামে কয়টি সিম নিবন্ধিত রয়েছে, বিকাশ বা অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে কত টাকা লেনদেন হয়েছে এবং সর্বশেষ ব্যালেন্স কত। এমনকি পাসপোর্ট ডেটাবেজে থাকা গোপন ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ব্যক্তিগত ঠিকানা সংক্রান্ত ফাইলও টাকার বিনিময়ে সরবরাহ করছে এসব চক্র।

বিপদে সাধারণ মানুষ ও সাইবার নিরাপত্তা ডিজিটাল নিরাপত্তার এই মারাত্মক লঙ্ঘনের ফলে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ নাগরিকরা। অপরাধী চক্র, ব্ল্যাকমেইলার এবং অপহরণকারীরা সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে টার্গেট করা ব্যক্তির অবস্থান ও কল রেকর্ড পেয়ে যাচ্ছে। এতে করে পারিবারিক কলহ, ব্ল্যাকমেইলিং, চাঁদাবাজি এবং অপহরণের মতো মারাত্মক অপরাধ বহুগুণে বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব মেসেজিং অ্যাপের চ্যানেল পরিচালনা করা চক্রের সাথে রাষ্ট্রীয় ও বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কিছু অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ থাকার সুনির্দিষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। বিশেষ করে টেলিকম অপারেটর, মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং নির্দিষ্ট ডাটাবেজের সরাসরি অ্যাক্সেস আছে—এমন লোকজনের মাধ্যমেই এসব তথ্য বাইরে পাচার হচ্ছে।

২৭ জনসহ পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংসে ডিবির সাঁড়াশি অভিযান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রামের ওই চক্রের ২৭ জন সদস্যের পাশাপাশি যারা এসব হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপ পরিচালনায় যুক্ত রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রযুক্তিগত নজরদারি ও ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সাইবার ব্ল্যাকমেইলারদের মূল নেটওয়ার্ক সনাক্ত করা হয়েছে। খুব দ্রুতই ডিবির বিশেষ অভিযান টিম একযোগে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এই তথ্য পাচারকারী সিন্ডিকেটের সদস্যদের গ্রেপ্তার করবে। নাগরিক তথ্যের সুরক্ষায় এই চক্রের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

← সব সংবাদে ফিরে যান